Articles by "Health Tips"

কিভাবে প্রতিরোধ করবেন করোনা ভাইরাস




করোনা ভাইরাস, সম্প্রতি চীনের উহান প্রদেশে প্রথম দেখা দেয় এই প্রাণঘাতি ভাইরাসটি। তবে যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, নেপাল, তাইওয়ান, হংকং,মালয়েশিয়া সহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়েছে এই চীনা ভাইরাস। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে ৮১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পাশের দেশ ভারতেও করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে বাংলাদেশে এখনো এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
করোনা ভাইরাস সাধারণত প্রাণী থেকে প্রাণীতে ছড়ায়। তবে এখন মানুষের দেহ থেকে মানুষের দেহেও ছড়াচ্ছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্রুত ছড়াচ্ছে এটি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি হয়তো মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতোমধ্যে ‘মিউটেট করছে, অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে। ফলে এটি আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
করোনা ভাইরাসের লক্ষণ
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচদিন লাগে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তারপর দেখা দেয় শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট।
১. করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ হলো শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
২. এর সঙ্গে সঙ্গে থাকে জ্বর এবং কাশি।
৩. অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া।
৪. নিউমোনিয়া হতে পারে।


প্রতিরোধে যা করবেন
মানুষের দেহ থেকে মানুষের দেহে ছড়ায় বলে যে সকল স্থানে করোনা ভাইরাস দেখা দিয়েছে সেসব স্থান এড়িয়ে চলাই ভাল। নতুন এই ভাইরাসের কোন টিকা বা ভ্যাকসিন আবিস্কার হয়নি এখনো। ফলে  করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারেন। সমস্যা অনুভব করলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আপনার পরিচিত কেউ আক্রান্ত মনে হলেও দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

১. ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার করুন।
২. গণপরিবহন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
৩. প্রচুর ফলের রস এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৪. ঘরে ফিরে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।
৫. কিছু খাওয়া কিংবা রান্না করার আগে ভালো করে ধুয়ে নিন।
৬. ডিম কিংবা মাংস রান্নার সময় ভালো করে সেদ্ধ করুন।
৭. ময়লা কাপড় দ্রুত ধুয়ে ফেলুন।
৮. নিয়মিত থাকার ঘর এবং কাজের জায়গা পরিষ্কার করুন।
৯. সুরক্ষিত থাকতে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন।
১০. অপ্রয়োজনে ঘরের দরজাজানালা খুলে রাখবেন না।

ডায়েট প্ল্যান-১: যারা ভাত জাতীয় খাবার পছন্দ করেন

অনেকেই আছেন যারা ভাবেন ভাত খেয়ে ওজন কমানো যায় না। কথাটি সম্পূর্ণ ভুল। পরিমিত পরিমাণ ভাত ওজন কমাতে বেশ সহায়ক। নিয়ম করে রাতের বেলা এই চার্টটি অনুসরণ করেই দেখুন ওজন কমে কিনা
১ কাপ ভাতঃ ভাতের পরিমাণ ১ কাপই হতে হবে। কোনো ভাবেই এর চাইতে বেশী নয়।
১ টুকরো মাছ/ মাংসঃ মাঝারি আকৃতির এক টুকরো মাছ/ মাংস শরীরের আমিষের চাহিদা পূরণ করবে।
১ কাপ সবজিঃ কম তেলে বা তেল বিহীন সবজিভাজি ফ্যাট অনেকাংশে কমায়। ১ কাপ পরিমাণ সবজি অবশ্যই ডায়েট চার্টে রাখা উচিত। কাঁচা সবজির সালাদ হল সব চাইতে ভালো ।
১ কাপ ডালঃ ডাল ফ্যাট কাটতে সহায়তা করে। পাশাপাশি শরীরে পুষ্টি যোগায় ।
১ টি ফল ও দইঃ খাবার শেষে ১ টি কলা বা ১ টি আপেল কিংবা ১ টি কমলা খাবেন। এই ফলগুলো ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে। আর ১/৪ কাপ টক দই। এটা খাবার হজমে সাহায্য করবে।

ডায়েট প্ল্যান-২: যারা রুটি জাতীয় খাবার পছন্দ করেন

অনেকে রাতে ভাত খেতে পারেন না বা খেতে চান না। তাদের জন্য এই ডায়েট চার্ট। অনুসরন করে দেখুন, ওজন কমবে দ্রুত।
২/৩ টি পাতলা আটার রুটিঃ রুটিটি অবশ্যই আটার হতে হবে। লাল আটা হলে ভালো হয়। ময়দা ও পাউরুটি হলে চলবে না। কারন দেখা গেছে ময়দার রুটি ও পাউরুটি খেলে ওজন বাড়ে
১/২ কাপ সবজিঃ কম তেলে বা তেল বিহীন সবজি ভাজি আটার রুটির সাথে খেতে পারেন।
১/২ টি ডিমের সাদা অংশঃ ডিম প্রোটিনের খুব ভালো একটি উৎস। ডিমের সাদা অংশে ক্যালোরি অনেক কম থাকে। তাই ১/২ টি ডিমের শুধুমাত্র সাদা অংশ খেতে পারেন। কুসুম নয়।  কিংবা এক টুকরো মাছ বা মাংস যা আপনার পছন্দ।
১/২ টি ফলঃ কলা, আপেল কিংবা কমলা এই তিনটি ফলের যে কোন ১ টি খাবেন। আবার অনেকে দই খেতে চান।  দই খেতে চাইলে ২/৩ টেবিল চামচ খেতে পারেন।

ডায়েট প্ল্যান-৩: সবচাইতে দ্রুত ওজন কমানোর জন্য

এই ডায়েট প্ল্যানটি যে কেউ অনুসরণ করতে পারেন খুব দ্রুত ওজন কমাতে চাইলে। দ্রুত ওজন কমাতে খুবই কার্যকরী একটি চার্ট।
আধা কাপ হাই ফাইবার কর্ণফ্লেক্সঃ হাই ফাইবার কর্ণফ্লেক্স ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে কর্ণফ্লেক্স অবশ্যই চিনি ছাড়া হতে হবে। যদি চিনি ছাড়া খেতে না পারেন তবে মধু ব্যবহার করতে পারেন।
১ কাপ মাখন ছাড়া দুধঃ মাখন ছাড়া দুধে ক্যালোরির পরিমাণ অনেক কম থাকে। তাই ডায়েট চার্টে ১ কাপ মাখন ছাড়া দুধ অবশ্যই রাখবেন।
ফলঃ এই ডায়েট চার্টে ফলের গুরুত্ব অনেক বেশী। বেশী করে ফল খাওয়া উচিত রাতে। বিশেষ করে কলা ও সবুজ আপেল। এরা ফ্যাট কমাতে অনেক সহায়তা করে।
কর্ণফ্লেক্স,দুধ ও ফল এক সাথে মিশিয়ে খেয়ে নিন। দুধটা ঠাণ্ডা না খেয়ে গরম খাবেন। সাথে খেতে পারেন এক মুঠো কাঠ বাদাম।

আমের পরিচিতি

আম আমাদের সবার অতি প্রিয় একটি ফল।আমাদের আশেপাশে হয়ত এমন মানুষ মনে হয়না যে খুঁজে পাওয়া যাবে, যে আম খেতে পছন্দ করে না। উপমহাদেশের সবচাইতে সুস্বাদু ফল হল আম। সাধারণত কাঁচা অবস্থায় এর রং সবুজ এবং পাকা অবস্থায় হলুদ রং আবার কিছু সময় লাল হয়ে থাকে। বাংলাদেশ এবং আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যে প্রজাতির আম চাষ হয় তার বৈজ্ঞানিক নাম হল Mangifera indica।
আম আমরা কাঁচা অথবা পাকা যে ভাবেই খায় না কেন তা আমাদের শরীরের জন্য অতান্ত উপকারী। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাকা আমের তুলনায় কাঁচা আমের গুণ আরও বেশি। কাঁচা অথবা পাকা যাই হোকনা কেন, আমাদের শরীরকে সুস্থ রোগমুক্ত রাখতে আম বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

আমের প্রজাতি

পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ প্রজাতির মত আম আছে। আমের বিভিন্ন জাত আছে, যেমন- ফজলি, ল্যাংড়া, খিরসা, অরুনা, আম্রপালি, মল্লিকা, সুবর্নরেখা, গোপালভোগ, মিশ্রিদানা, নিলাম্বরী, তোতাপূরী, কারাবাউ, কেঊই সাউই, গোপাল খাস, কেন্ট, কালীভোগ, কাচামিঠা, আলফানসো, বারোমাসি, সূর্যপূরী, পাহুতান, ত্রিফলা ইত্যাদি। আমাদের দেশে আম গাছকে জাতীয় গাছের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

আমের পুষ্টিগুণ-

আমে প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ এবং ভিটামিন উপাদান যেমন- ভিটামিন-এ ভিটামিন-সি, ভিটামিন-বি৬ রয়েছে। তাছাড়া আরও কিছু পুষ্টি উপাদান পটাসিয়াম, কপার লৌহ এবং এমাইনো এ্যাসিড রয়েছে। এছাড়াও আমে বায়োলজিকাল উপাদান, প্রো ভিতামিন এ বেটা ক্যারোটিন, লুশিয়েন জিলাইক এ্যাসিড, আলফা ক্যারোটিন, পলি পিথানল কিউরেচিন কাম্ফারল, ক্যফিক এ্যাসিডসহ আরও অনেক বিশেষ উপাদান রয়েছে যা স্বাস্থের জন্য অত্যান্ত উপকারী।


আমের ১৫ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা-

১) পাকা আম আমাদের ত্বক সুন্দর, উজ্জ্বল ও মসৃণ করে। সুদু তাই নয়, এটি আমাদের ত্বকের ভেতর ও বাইরে থেকে উভয়ভাবেই সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। আম আমাদের ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে ও ব্রণের সমস্যা সমাধানে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২) আমে পর্যাপ্ত পরিমাণে খনিজ লবণের উপস্থিতিও রয়েছে । আমাদের শরীরের দাঁত, নখ, চুল ইত্যাদি মজবুত করার জন্য আমের খনিজ লবণ উপকারী ভূমিকা পালন করে।

৩) সাধারণত পাকা আম ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে ফলে মুখের ও নাকের উপর জন্মানো ব্ল্যাকহেড তা দূর করতে অনেকাংশে সাহায্য করে। আপনি যদি প্রতিদিন ১০০ গ্রাম পাকা আম  খান তাহলে আপনার মুখের কালো দাগ দূর হবে।

৪) পাকা আমের আঁশে কিছু উপাদান যেমন- ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ থাকায় তা হজমে সহায়তা করে থাকে। আমে আছে প্রচুর পরিমাণে এনজাইম এটা আমাদের শরীরের প্রোটিন অণুগুলো ভেঙ্গে ফেলতে সাহায্য করে যা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

৫) আমে প্রায় ২৫ রকমের বিভিন্ন কেরাটিনোইডস উপকারী ব্যাকটেরিয়া আছে যা আপনার ইমিউন সিস্টেমকে সুস্থ ও সবল রাখে।

৬) আমে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন- বি কমপ্লেক্স। এই ভিটামিন আমাদের শরীরের স্নায়ুগুলোতে অক্সিজেনের সরবরাহ সচল রাখতে সাহায্য করে। আমাদের শরীরকে রাখে পুরোপুরি সতেজ। যার ফলে খুব দ্রুত ঘুম আসতে সাহায্য করে।

৭) আমে রয়েছে বেটাক্যারোটিন,  ভিটামিন ই এবং ছেলেনিয়ামের পরিমান পর্যাপ্ত থাকায় হার্টের সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে।আমাদের হার্টকে সুস্থ ও সবল রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।


৮) আপনি যদি প্রতিদিন এককাপ আম খেতে পারেন তাহলে এটি আপনার শরীরে ভিটামিন ‘এ’ এর চাহিদার প্রায় পঁচিশ শতাংশের যোগান দিতে পারবে। ভিটামিন ‘এ’ আমাদের চোখের জন্য খুবই উপকারী। এটি আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে।

৯) আমে প্রচুর পরিমাণে এসিড থাকে যেমন- টারটারিক এ্যাসিড, ম্যালিক এ্যাসিড ও সাইট্রিক এ্যাসিড যা আমাদের শরীরে অ্যালকালাই বা খার ধরে রাখতে সহায়তা করে অনেকাংশেই।

১০) আমের মধ্যে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা কিনা শরীরের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। স্তন, লিউকেমিয়া, কোলন প্রোস্টেট ক্যান্সারের মত মারাত্মক ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। এতে প্রয়োজনীয় এনজাইমও পাওয়া যায়।

১১) পাকা আম টাশিয়ামসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি আমদের হার্টবিট ও রক্তস্বল্পতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। আমাদের হার্টবিটকে সচল রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

১২) পাকা আম আমাদের শরীরের রক্ত পরিষ্কারে সহায়তা করে। আমের মধ্যে থাকা টারটারিক, ম্যালিক ও সাইট্রিক এ্যাসিড শরীরে অ্যালকোহল ধরে রাখতে সহায়তা করে।

১৩) আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, পাকা আমের তুলনায় কাঁচা আমে ভিটামিন-সি এর পরিমাণ বেশি। যা আমাদের দাঁত ও হাড় গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

১৪)  আম আমাদের শরীরের ক্ষয়রোধ করে। প্রতিদিন আম খেলে দেহের ক্ষয়রোধ হয় এবং স্থূলতা কমিয়ে শারীরিক গঠনে ইতি বাচক ভূমিকা পালন করে ।

১৫) সুধু তাই নয়, আমের ভেষজ গুণ আমাদের স্কিন ক্যান্সারসহ ভিভিন্ন জটিল রোগ থেকে রক্ষা করে।

আরও কিছু উপকারিতা আমের-

আরও কিছু বিশেষ উপকারিতা আছে আমের, যা আমাদের জানা একান্ত জরুরী।
*কাঁচা আমস্মৃতি শক্তি  বৃদ্ধিতে সাহায্য করে
* আম প্রচুর ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় কোষ্টকাঠিণ্য দূর করে।
*পটাশিয়ামের অভাব পূরণ করে।
*কিডনির সমস্যা প্রতিরোধ সাহায্য করে।
*লিভার ভালো রাখে।

আমের বীজের উপকারিতা-

আমের বীজের অনেক উপকারিতা রয়েছে। তার মধ্যে আপনার স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য আমের বীজের তেল ব্যবহার করতে পারেন। আপনার স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য আমের বীজের তেল ফ্যাটি এসিড, খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিনের একটি ভালো উৎস। এর জন্য আপনাকে কোথাও যেতে হবে না। আপনি নিজে চাইলে আপনার বাড়িতে এই তেল তৈরি করতে পারবেন। প্রথমে আম বীজের বাইরের কোট ছারিয়ে নিন, তারপর নারিকেল, জলপাই, তিল বা সরিষার তেল দিয়ে মেশান। একটি পরিষ্কার কাচের বয়ামের বা পাত্রের মধ্যে ঢেলে সূর্যালোকে এ মিশ্রণটি এক সপ্তাহের জন্য রাখুন। চুল পড়া বা ধুসর চুল এড়াতে নিয়মিত প্রতিদিন এ মিশ্রণটি বা তেল টি আপনার চুলে  ব্যাবহার করুন। এছাড়াও আপনার চুল কালো, লম্বা ও পুরু করতে এটি ব্যাবহার করুন। কিছু দিন পর দেখতে পারবেন, এটি খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

পরিশেষে...

আমরা আম কাঁচা অথবা পাকা যে ভাবেই খাই না কেন তা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাকা আমের তুলনায় কাঁচা আমের গুণ আরও অনেক বেশি। আম আমাদের শরীরকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে ডায়াবেটিস রোগীর আম খাওয়ায় সতর্ক থাকা উচিত। যাতে করে পরিমিত পরিমাণ আম খেলে শরীরে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে। তবে সত্যিকার অর্থে অতিরিক্ত পরিমাণে আম খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ক্ষতিকর।এখন সব অঞ্চলে সব দেশে আম পাওয়া যায়। তার একটা কারন হল আম গাছ বিভিন্ন কৃষি-উপযোগী জলবায়ুতে জন্মাতে সক্ষম বলে বর্তমানে এটিকে পৃথিবীর প্রায় সব অঞ্চলেই দেখা যায়।


হেপাটাইটিস এ হল হেপাটাইটিস ‘এ’ ভাইরাসের সংক্রমনে সৃষ্ট একটি তীব্রসংক্রামক রোগ যা প্রদাহ সৃষ্টি করে যকৃতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতায় ব্যাঘাত ঘটায়। পাঁচটি পরিচিত হেপাটাইটিস (এ, বি, সি, ডি, ও ই) ভাইরাসের মধ্যে এটি অন্যতম। শিশু কিংবা বড় যে কারোরই এই রোগ হতে পারে। হেপাটাইটিস এ ভাইরাসের সংক্রমনে অনেক ক্ষেত্রে কোন উপসর্গই দেখা যায় না বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছু উপসর্গ দেখা যায়।
সাধারনত সংক্রমণ এবং উপসর্গের মধ্যে দুই থেকে ছয় সপ্তাহের ব্যবধান থাকে এবং উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর মোটামুটিভাবে আট সপ্তাহ স্থায়ী হয়। উপসর্গসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জ্বর, তলপেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি, উদরাময়, ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। আবার কিছু ক্ষেত্রে, প্রাথমিক সংক্রমণের পরবর্তী ছয় মাস সময়ে উপসর্গসমূহ আবার ফিরে আসতে পারে। মৃদু বা হাল্কা হেপাটাইটিস এ এর ক্ষেত্রে তেমন কোন চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। সাধারনত এই রোগে যারা আক্রান্ত হন, তারা কোন রকম যকৃতের ক্ষতি ছাড়াই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সু্‌স্থ হয়ে ওঠেন। কিছু ক্ষেত্রে যকৃতের তীব্র বিকলতা হতে পারে বিশেষ করে প্রবীণ মানুষদের ক্ষেত্রে। দূষিত খাবার ও পানি গ্রহণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তি সংস্পর্শে আসলে এই রোগ হতে পারে।

কিভাবে ছড়ায়

এটা সাধারণত সংক্রামিত মল দ্বারা দূষিত খাবার বা পানি পানের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। আবার আক্রান্ত ব্যক্তির রান্না করা বা পরিবেশন করা খাবার খেলে, মারাত্মকভাবে হেপাটাইটিস ‘এ’ আক্রান্ত এলাকায় বসবাস বা ভ্রমণ করলে, হেপাটাইটিস ‘এ’ আক্রান্ত কোন ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করলে, ধূমপান বা যেকোনো মাদক সেবন করলে কিংবা সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বা স্পর্শের মাধ্যমেও এটা ছড়াতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও কোন উপসর্গই দেখা যায় না, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। আবার শিশুরা সংক্রমিত হলে বেসিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা যায় না, কিন্তু তাদের থেকে অন্যদের সংক্রমণ হতে পারে। সাধারনত হেপাটাইটিস এ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হবার এক মাস পর পর্যন্ত এর কোন লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যায় না। যদি উপসর্গ দেখা যায়, তখন সেগুলো মোটামুটি আট সপ্তাহ স্থায়ী হয়। উপসর্গসমূহ হল অবসাদ অনুভব করা, বমি বমি ভাব হওয়া বা বমি করা, উদরাময়, ত্বক এবং চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া, তলপেটে ব্যথা, ক্ষুদা মন্দা, জ্বর, মাংসপেশীতে ব্যথা, চুলকানি, গাঢ় রংয়ের প্রস্রাব ইত্যাদি।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা

যেহেতু হেপাটাইটিস এ এর উপসর্গগুলো অন্যান্য অনেক রোগের উপসর্গসমূহের অনুরূপ, তাই রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হয়ে থাকে।

চিকিৎসা

শিশুদের ক্ষেত্রে এটা সাধারনভাবে তেমন বিপজ্জনক নয়। একবার সংক্রমণ হওয়ার পরে একজন মানুষের মধ্যে তার অবশিষ্ট জীবনের জন্য এই রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা তৈরি হয়ে যায়।এর কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে বমি বমি ভাব বা উদরাময়ের জন্য বিশ্রাম ও ওষুধের পরামর্শ দিতে পারেন। সাধারনভাবে এই রোগ সম্পূর্ণরূপে সেরে যায় এবং যকৃতের কোন সমস্যা থাকে না। কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে যকৃতের চরম বিকলতা ঘটলে, যকৃত প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তার চিকিৎসা করা হয়ে থাকে।
যেহেতু হেপাটাইটিস ‘এ’র কোন নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তাই, হেপাটাইটিস ‘এ’ আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসকেরা কিছু ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেন। যেমন-
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে।
  • পানি ভালভাবে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে পান করতে হবে।
  • প্রচুর পরিমানে পানি বা তরল খাবার গ্রহন করতে হবে।
  • বমি বমি ভাবের ফলে কোন কিছু খেতে ইচ্ছে না করলে, সারাদিন অল্প অল্প করে হালকা ও সহজে হজম হয় এমন খাবার খেতে হবে।
  • ধূমপান, অ্যালকোহল বা অন্য যেকোন মাদক বর্জন করতে হবে।
  • পুষ্টিকর খাবার গ্রহন করতে হবে। নিয়মিত সুষম খাদ্য যেমন- শাক-সবজি ও ফলমূল খেতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে।
  • খাবার রান্নার সময় ভালো করে সিদ্ধ করতে হবে।
  • বাসী বা পঁচা খাবার খাওয়া যাবে না।
  • হোটেলের খাবার না খাওয়াই ভাল।
  • রান্নার আগে হাত ভালভাবে ধুতে হবে।
  • খাওয়ার আগে ও পায়খানা ব্যবহারের পর হাত ভালভাবে সাবান দিয়ে ভালভাবে ধুতে হবে।
  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে রান্না করা বা রান্না পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবনের পাশাপাশি তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে।

হেপাটাইটিস ‘এ’ প্রতিরোধে করনীয়

  • বারে বারে হাত ভালোমত পরিষ্কার করতে হবে।
  • খাবার যথাযথভাবে রান্না করা।
  • হেপাটাইটিস ‘এ’ প্রতিরোধে হেপাটাইটিস ‘এ’ এর ভ্যাকসিন নিতে হবে।
  • মারাত্মকভাবে হেপাটাইটিস ‘এ’ আক্রান্ত এলাকায় ভ্রমন বা বসবাসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে।
  • কাচা ফল, সবজি এবং অন্যান্য খাবার ভাল করে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করে খেতে হবে।
  • অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে এবং খাবার সবসময় গরম করে খেতে হবে।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির রান্না বা পরিবেশন করা খাবার খাওয়া যাবে না।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকা বা তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা যাবে না।
  • কোন কারনে রক্ত গ্রহনের প্রয়োজন হলে ভালভাবে দাতার রক্ত পরীক্ষা করে নিতে হবে।
  • ধূমপান, অ্যালকোহল বা যেকোনো ধরনের মাদক বর্জন করতে হবে।

হেপাটাইটিস ‘এ’ এর টিকা

হেপাটাইটিস ‘এ’ প্রতিরোধে হেপাটাইটিস এ টিকা বেশ কার্যকর। একবার এই টিকা নিলে এটা সারা জীবনের জন্য কার্যকর থাকে। কিছু দেশে শিশুদের জন্য এবং যাদের আগে এই টিকা দেওয়া হয়নি এমন মানুষদের জন্য এটা নিয়মিতভাবে সুপারিশ করা হয়।

হেপাটাইটিস ‘এ’ এর সংক্রমনে জটিলতা

অনেক ক্ষেত্রেই এ রোগ একা একাই ভাল হয়ে যায়। আবার কোন কোন রোগীর ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস ‘এ’র লক্ষণ বা উপসর্গ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়েও অনেক বেশী স্থায়ী হয় কিংবা লক্ষণ বা উপসর্গ ভালো হয়ে যাওয়ার পরও তা আবার ফিরে আসে। কিছু ক্ষেত্রে যকৃতের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় বা যকৃত অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে।

সবশেষে...

হেপাটাইটিস ‘এ’ এর সংক্রমনের ঘটনা অনেক হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোন উপসর্গ দেখা যায় না। অনেক ক্ষেত্রেই রোগী একা একাই সুস্থ্য হয়ে যায়। এ রোগে একবার আক্রান্ত হলে শরীরে এই রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। উন্নয়নশীল দেশের অনেক শিশুই ১০ বছরের কম বয়সেই এই ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হয়, আবার একা একা সুস্থ্যও হয়ে যায়। হেপাটাইটিস ‘এ’ এর টিকা নিলে সারা জীবনের জন্য এটা এই ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেয়। তাই শিশু ও যারা এই ভাইরাসের টিকা নেননি, তারা এই টিকা নিয়ে এই ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারেন। হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর ২৮ জুলাই তারিখে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস পালিত হয়।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা আমাদের দেশের একটা কমন রোগ। তবে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা কিন্তু আসলে এটা কোন রোগ না। এটা সাধারণত কিছু বদভ্যাসের কারণে হয়ে থাকে। অন্য যেকোন রোগের চেয়েও এটা মাঝে মাঝে খারাপ আকার ধারণ করতে পারে। কিছু নিয়ম কানুন মেনে চললে সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একদিনে হয়তো পুরোপুরি নিরাময় হবেনা। কিন্তু ক্রমাগত অভ্যাস করে গেলে আপনি একদিন পুরোপুরি এসিডিটি মুক্ত থাকতে পারবেন। আসুন এই আর্টিকেল থেকে জেনে নেই কীভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন অতি সহজে।


গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বিষয়টি আসলে কী ?


বৈজ্ঞানিকভাবে যে জিনিসটিকে গ্যাস্ট্রিক বলা হয়, সেটির আসল নাম হচ্ছে পেপটিক আলসার ডিজিজ বা পিইউডি। পাকস্থলী, ডিওডেনাম ও ইসোফেগাস—এই তিনটির যেকোনো জায়গায় যদি অ্যাসিডের কারণে ক্ষত হয়, এটাকে বলে পেপটিক আলসার ডিজিজ। এবং যখন বলা হচ্ছে গ্যাস্ট্রিক আছে, তখন বোঝা যাচ্ছে, তার পেপটিক আলসার রয়েছে। এটা পাকস্থলী বা ডিওডেনামে হতে পারে।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা কেন হয়?

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা তে আক্রান্ত ব্যক্তি বা রোগীর বেলায় বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ে খেতে হবে বা ভাজা-পোড়া-তেলজাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। নন-আলসার ডিসপেপসিয়া, এটাতে গ্যাস হয় বেশি, জ্বালা হয় বেশি, পেট ফুলে থাকে বেশি—সেটাতে ভাজা-পোড়া সাংঘাতিক ক্ষতিকর। তবে যদি এটি আলসার হয়ে থাকে, যেহেতু আলসারের একটি চিকিৎসা রয়েছে এবং অনেক সময় চিকিৎসা ছাড়াও এরা ভালো হয়ে যায়, এ জন্য এখানে অনেক বেশি সমস্যা হয় না। তবে ওই খাবারগুলো লক্ষণকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। যাঁর ব্যথা রয়েছে, তাঁর ব্যথাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। যাঁর জ্বলা রয়েছে, সেটা বাড়িয়ে দিতে পারে। এই বিষয়গুলো হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য আজকাল চিকিৎসার বিষয়টি এমন দিকে যাচ্ছে যে ব্যক্তির যা মনে চায় তাই খাবে, চিকিৎসক শুধু ওষুধ দিয়ে ভালো করে দেবে। খাওয়ার সীমাবদ্ধতা ছাড়া চিকিৎসা করতে চাই। আমরা আশা করছি, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে এমন চিকিৎসা এসে যাবে, যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে খাবারের বেলায় বাছতে হবে না।

নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী খাবারের কথা বলতে গেলে, রিফ্লাক্স বলে মানুষের শরীরে একটি জিনিস রয়েছে, আমি যদি প্রতিদিন ২টার সময় ভাত খাই, একদিন যদি না খাই সে সময়ে পেট অ্যাসিডে ভর্তি হয়ে যাবে। তবে আমি যদি সেখানে দেরি করে খাই, আমার লক্ষণটা বেড়ে যাবে। এ জন্য নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার উপকার রয়েছে। আমাদের শরীর একটি অভ্যাসের মধ্যে চলে যায়। অভ্যাসের ব্যতিক্রম হলেই সমস্যা হয়। তবে ডিওডেনাল আলসার যেটা, সেখানে যদি প্রায় প্রায় খাবার দেওয়া হয়, তাঁদের লক্ষণগুলো কমতে সাহায্য হয়। তবে এখন যেই চিকিৎসা পেপটিক আলসারের রয়েছে, এখানে খাওয়ার বিষয়ে বাছতে হবে না। এর পরও আমরা বলি, আপনার যেটা খেলে অসুবিধা মনে হয়, সেটি এড়িয়ে যান।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকার উপায়ঃ

আদার ব্যবহার :
আদাতে এমন কিছু উপাদান আছে যার কারনে আপনার বদ হজম, জ্বালা পোড়া, বুকে ব্যথা কমে যেতে পারে। দেখুন এটির ব্যবহার
১ নং পদ্ধতি : আদা কুচি কুচি করে কেটে পানির মধ্যে মিশিয়ে তারপর পানি ফুটান । পানি ফুটানো হলে তা ১০ মিনিটের মতো নামিয়ে রাখুন এবং দিনে ২/৩ বার চায়ের মত পান করুন । এটির সাথে মধু মিশালে ভাল ফল পাওয়া যাবে।
২ নং পদ্ধতি : আদা বেটে রস করুন এবং এটি মধুর সাথে মিশিেয়ে দুপুর ও রাতের খাবারের আগে খেয়ে নিন।
৩ নং পদ্ধতি : আপনার যখন ইচ্ছা হয় তখন একটু আদা চিবিয়ে খেতে পারেন। এতে আপনার শরীর ঠান্ডাও থাকবে।

দইয়ের ব্যবহার:
আপনি প্রতিদিন একটু করে দই খান। পেটের ব্যাকটেরিয়া দুর করে । ব্যাকটেরিয়া হরো গ্যাস্ট্রিক সমস্যার অন্যতম প্রধান কারন। কলা, মধু আর দই একসাথে মিশিয়ে এটি প্রতিদিন খা্ইতে পারেন।
আলুর ব্যবহার: গ্যাস্ট্রিক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আলুর রসের ব্যবহার করতে পারেন।
১ নং পদ্ধতি: আলু বেটে রস করে নিন। এরপর আলুর রস আর গরম পানি একসাথে মিশিয়ে প্রতিদিন দুপুর ও রাতের খাওয়ার দু ঘন্টা আগে খেয়ে নিন।

পানির ব্যবহার :
সবচেয়ে সহজ উপায় হলো পানির ব্যবহার। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে একদম খালি পেটে পুরা পেট ভর্তী করে পানি পান করুন। এভাবে ৩ সপ্তাহ পার করলেই উত্তম ফল পাবেন।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা নিয়ে শেষ কথাঃ

গ্যাস্ট্রিকের সঙ্গে জীবনযাপনের ধরন এবং খাবার-দাবারের সম্পর্ক খুবই কম। এগুলো নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। যেমন—দক্ষিণ ভারতের লোকেরা খুব বেশি ঝালজাতীয় খাবার খায়। ওখানে মানুষকে আধা কেজি করে ঝালজাতীয় খাবার প্রতিদিন দিয়ে দেখা হয়েছে। দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে আলসার বেশি হয়নি। সাধারণ লোকের যেমন রয়েছে, ওদের মধ্যেও তাই রয়েছে। বেশি ঝাল খাওয়ায় কোনো প্রভাব ফেলছে না। তবে যার গ্যাস্ট্রিক আছে, তার ঝাল খেলে লক্ষণগুলো বেশি প্রকাশ পেতে পারে। গ্যাস্ট্রিক আছে, তবে চিকিৎসা নেই, ঝাল খাচ্ছে, ওই সময়ে একটু বেশি হতে পারে। তবে ঝাল খেলে গ্যাস্ট্রিক হবে, সেটি ঠিক নয়।

খেজুরের পরিচিতি

তামার বা খেজুর শব্দটি আল কোরআন ও রাসূলের বাণীতে অনেক বার এসেছে। খেজুর আমাদের সবার অতি পরিচিত একটি ফল। আর খেজুর জনপ্রিয় ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি ফল। খেজুরকে সাধারণত বলা হয় রাজকীয় ফল। শুধু এর অতুলনীয় স্বাদ আর গন্ধের জন্য নয় বরং খেঁজুরের খ্যাতি তার অসাধারণ রোগ নিরাময়ের জন্যও। আপনার সারা দিনের ক্লান্তি দুর করতে একটি খেজুর আপনার জন্য যথেষ্ট। সামনে পবিত্র রমজান মাস আর রমজানে খেজুর দিয়ে ইফতার করা, মুমিন মুসলিমদের জন্য আল্লাহর বিশেষ একটা নিয়ামত। সারাদিন রোজা রাখার পর আমরা সাধারণত খেজুর খেয়ে ইফতার শুরু করি। মুমিন-মুসলিমদের জন্য খেজুর খেয়ে ইফতার করা সুন্নত। তাই সাধারণত রমজানে খেজুরের কদর একটু বেশি বেড়ে যায়। খেজুর না থাকলে আমাদের ইফতার যেন পরিপূর্ণতা পায় না।
আমরা কম-বেশি সকলেই জানি খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক। আর এই সুন্নত মুবারকের মধ্যেই আছে সমস্ত প্রকার ভালাই। আর আমাদের পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মাঝেও খেজুরের অনেক অনেক গুণাবলী ও পুস্তিগুনের কথা বর্ণনা করা আছে। তারপরও বর্তমান সময়ের বিভিন্ন বিজ্ঞানীরা হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে খেজুর নিয়ে অনেক গবেষণা করে খেজুরের গুনাগুন সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। গবেষণাই তারা বলেছেন, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ খেজুর অসাধারণ ঔষধিগুনে পরিপূর্ণ একটা ফল। সারা বছর খেজুর খাওয়া আপনার স্বাস্থের পক্ষে খুবই উপযোগী।

খেজুরের পুষ্টিমান:

সাধারণত বলা হয়ে থাকে, বছরে যতগুলো দিন আছে, খেজুরে তার চেয়ে বেশি গুণ আছে। সাধারণত প্রতি ১০০ গ্রাম পরিস্কার ও তাজা খেজুর ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি রয়েছে যা থেকে ২৩০ ক্যালরী শক্তি উৎপাদন করে, ৭৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২.৫ গ্রাম প্রোটিন এবং ০.৪ গ্রাম ফ্যাট। গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ছাড়াও মেলে অত্যাবশ্যক ভিটামিন উপাদান। এ ছাড়াও মেলে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যামাইনো অ্যাসিড। খেজুরে স্বল্প পরিমাণে পানি থাকে যা কিনা শুকানো অবস্থায় তেমন প্রভাব ফেলে না।সাধারণত পাকা খেজুরে প্রায় ৮০শতাংশ চিনিজাতীয় উপাদান রয়েছে। বাদ-বাকী অংশে খনিজ সমৃদ্ধ বোরন, কোবাল্ট, ম্যাঙ্গানিজ, সেলেনিয়াম ফ্লুরিন, ম্যাগনেসিয়াম, এবং জিঙ্কের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান রয়েছে।
সাধারণত কচি খেজুর পাতা সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যায়। এছাড়াও, খেজুরের ফুলও খাবার উপযোগী। সনাতনী ধাঁচে স্ত্রী ফুল সাধারণত ৩০০-৪০০ গ্রাম ওজনে বিক্রয় করা হয়। আপনি চাইলে ফুলের কুঁড়ি দিয়ে সালাদ কিংবা শুকনো মাছ বা শুঁটকী দিয়ে চাটনী তৈরী করে রুটির সাহায্যে খেতে পারেন।

খেজুরের উৎপত্তি:

সারা পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে চারশ’ জাতেরও বেশি খেজুর পাওয়া যায়। সাধারণত তুরস্ক, ইরাক এবং উত্তর আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চল মরক্কোয় খেজুরের উপযোগিতা বা উৎপত্তি প্রাচীনকাল থেকেই রয়েছে। পবিত্র বাইবেলে খেজুরের কথা পঞ্চাশ বারেরও অধিক জায়গায় উল্লেখ রয়েছে। ইসলামী দেশগুলোতে পবিত্র রমজান মাসে ইফতারীতে খেজুরের আইটেম রাখা অনস্বীকার্য। শুধু তুরস্ক বা ইরাকে নয় মেদজুল এবং দেগলেত নূরজাতীয় খেজুরের চাষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা এবং দক্ষিণ ফ্লোরিডায় এখন খেজুরের চাষ করা হয়ে থাকে।
হজরত মারইয়াম (আ.) যখন প্রসব-বেদনায় কাতর হয়ে উঠেন, সে সময়ে তিনি খেজুর গাছের নিচে অবস্থান করছিলেন, তখন আল্লাহ তাকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘তুমি এ খেজুর গাছের কাণ্ড তোমার দিকে নাড়া দাও, (দেখবে) তা তোমার ওপর পাকা ও তাজা খেজুর ফেলছে।’ -সূরা মারইয়াম: ২৫

খেজুরের খাদ্য ও পুষ্টি উপকারিতাসমূহ:

খেজুরের উপকারিতায় সম্পর্কে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অনেক বাণী এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেহ সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন তাকে কোনো বিষ ও যাদু ক্ষতি করতে পারবে না। আজওয়া খেজুর হলো মদিনার উৎকৃষ্ট মানের খেজুর।’ -সহিহ বোখারি ও মুসলিম। খেজুরের স্বাস্থ্য উপযোগিতা বলে শেষ করা যাবে না। খেজুরের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রাকৃতিক আঁশের আধিক্য থাকায় এর উপকারিতা ও গুরুত্ব অনেক। খেজুর তিনটি, পাঁচটি বা সাতটি বেজোড় করে খাওয়ায় শরীরের উপকারিতা সবচেয়ে বেশি। এজন্য হাদিসে বেজোড় সংখ্যার কথা বলা হয়েছে। খেজুরে কী আছে যে, আমরা এতো গুরুত্বের সঙ্গে খেজুর খাই? আসুন চটজলদি জেনে নিই খেজুরের গুনাগুন।

১) মস্তিষ্ক সচল রাখেঃ খেজুরের সব থেকে বড় একটা সুবিধা হল খেজুর মস্তিষ্ককে প্রাণবন্ত রাখে। আমাদের ক্লান্ত শরীরে যথেষ্ট পরিমাণ শক্তির যোগান দিতে সক্ষম এই খেজুর।

২) গ্লুকোজের অভাব রোধেঃ সাধারণত রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর পেট খালি থাকে বলে শরীরে গ্লুকোজের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। খেজুর সেটা দ্রুত পূরণ করতে সাহায্য করে।

৩) কোষ্ঠকাঠিন্য রোধেঃ তুলনামূলকভাবে যেসব খেজুর একটু শক্ত সেইসব খেজুরকে পানিতে ভিজিয়ে (সারা রাত) সেই পানি খালি পেটে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য অনেকাংশে দূর হয়।

৪) গর্ভবতী মায়ের খাবারঃ সাধারণত যেসব মায়েরা গর্ভবতী বা ৭/৮ মাস সময় থেকে গর্ভবতী মায়েদের জন্য খেজুর একটি উৎকৃষ্ট খাদ্য। সাধারণত এই সময়টা গর্ভবতী মায়েদের শরীরে অনেক দুর্বলতা কাজ করে। তখন খেজুর মায়েদের শরীরের এই দুর্বলতা কাটাতে অনেক সাহায্য করে থাকে এবং ডেলিভারীর পর মায়েদের শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তপাত বন্ধ করতে ও খেজুর সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং বাচ্চা প্রসবের পরবর্তী সময়ে শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে খেজুর কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

৫) শক্তিদায়ক খাবার: খেজুরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালরি থাকে বিধায় যারা একটু দূর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী, সামান্য পরিশ্রমে হয়রান হয়ে যায় তাদের জন্য খেজুর নিয়মিত একটা খাবার বললেই চলে। কেননা খেজুর নিয়মিত খেলে আপনার শরীর ও মন দুটাই ভাল থাকবে।

৬) ক্যান্সার রোধেঃ আমাদের পেটের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে খেজুর। এছাড়াও আমাদের মুখগহ্বরের ক্যান্সার রোধেও এই ফল বেশ কার্যকরী।


৭) হার্টের সমস্যা রোধেঃ বিশেষ করে যাদের হার্টের সমস্যা আছে তাদের জন্য খেজুর খুবই উপকারী। কেননা খেজুর দুর্বল হার্টকে মজবুত করতে সক্ষম। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেজুর ব্লেন্ড করা জুস খেলে হার্টের সমস্যায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি কিছু দিনের মধ্যে ভাল সমাধান পাবেন।

৮) বদহজম রোধেঃ আমাদের মুখের লালাকে ভালোভাবে খাবারের সঙ্গে মিশতে সাহায্য করে খেজুর। ফলে আমাদের বদহজম অনেকাংশে দূর হয়। হৃদরোগ কমাতেও খেজুর বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

৯) দুর্বলাত রোধে: আমাদের দেহ ও মনকে সচল ও কার্যক্ষম রাখতে শক্তির প্রয়োজন। এর অভাবে আমাদের দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়,শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আমাদের মানসিক অবসাদ সৃষ্টি হয়ে থাকে। এসব ক্ষেত্রে শর্করা জাতীয় খাদ্য শক্তির উৎস হিসেবে বিশেষ কাজ করে।আর এই খেজুর শর্করা জাতীয় খাদ্য হিসেবে খাদ্য শক্তির উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করে।

১০) শরীরের ব্যাধি রোধেঃ খেজুরের মধ্যে থাকা প্রয়োজনীয় পরিমাণে উচ্চমাত্রার শর্করা, ক্যালরি ও ফ্যাট সম্পন্ন খেজুর সাধারণত জ্বর, মূত্রথলির ইনফেকশন, যৌনরোগ, গনোরিয়া, কণ্ঠনালির ব্যথা বা ঠান্ডাজনিত সমস্যা, শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধে বেশ কার্যকরী।

১১) অঙ্গক্ষয় প্রতিরোধেঃ সাধারণত যারা নেশাগ্রস্ত তাদের অঙ্গক্ষয় প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে খেজুর। আপনার স্বাস্থ্য ভালো করতে চাইলে বাড়িতে তৈরী ঘিয়ে ভাজা খেজুর ভাতের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে করে আপনার মুখের রুচি দিগুণ বৃদ্ধি পাবে। খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়াবে।

১২) প্রয়োজনীয় উপাদানঃ খেজুরের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণে তেল, ক্যালসিয়াম, সালফার, আইরন, পটাসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ, কপার এবং ম্যাগনেসিয়াম বিদ্যমান যা সুস্বাস্থের জন্য অতি দরকারি।

১৩) হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতেঃ আমাদের সুস্থ হৃদপিন্ডে দেহযন্ত্রে স্বাচ্ছন্দ এবং সতেজ বিধান করে এমন শক্তিদায়ক বা বলবর্ধক ঔষধ হিসেবে খেজুরের জুড়ি নেই বললেই চলে।

খেজুরের ঔষধি গুনাবলী:

১) বর্শ্য (রিকেট) রোগে: মেদোবহ স্রোতের ক্ষয় হতে থাকলেই সাধারণত এই রোগ দেখা দেয়। বিভিন্ন বয়সে এই রোগের নামকরণ বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। সাধারণত শিশুদের এই রোগ হলে রিকেট বলা হয় নবপ্রসূতির হলে বলে শুকনো সুতিকা। ৮-১০ বছরের ছেলে-মেয়েরা আস্তে আস্তে শুকিয়ে যায়। এসব ক্ষেত্রে আপনি একটা কাজ করতে পারেন ১৫-২০ গ্রাম খেজুর নিযে ৩ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে দেড় কাপ পরিমাণ নামিয়ে ১৪-১৫ দিন খাওয়ালে রিকেট রোগ অনেকাংশে ভাল হয়ে যাবে।

২) রক্তপিত্তে: সাধারণত এ অবস্থায় মাঝে মাঝে গালা দিয়ে প্রচুর রক্ত পড়ে একবার রক্ত দেখা দিলে আবার ৩-৪ মাস দেখা যায় না। আবার একটা সময় গলা সুড়সুড় করে সাসির সাথে একটু একটু রক্ত দেখা দেয়। এক্ষেত্রে খেজুরের ঔষধি গুনাবলীর ব্যবহার মতে ১৫-২০ গ্রাম পিন্ড খেজুর ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রেখে ২-৩ ঘন্টা পরে চটকে ছেঁকে যে রসালো পানি পাওয়া যাবে তা খাওয়াতে হবে। এতে বেশ উপকার পাওয়া যাবে।

৩) শুক্রবাহ স্রোত ক্ষয়ে: সাধারণত যাদের রৌদ্র একেবারে সহ্য হয় না এবং স্ত্রী সহবাসে দুর্বলতা আছে এবং সেই সাথে কোষ্ঠকাঠিন্যও আছে তারা যদি নিয়মিত ১৫-২০ গ্রাম খেজুর আধা লিটার পানি এবং ১০০ মিলিঃ লিটার দুধ মিশিয়ে এক সাথে ভাল করে সিদ্ধ করে এক কাপ আন্দাজে নামিয়ে ওই রসালো পানি পান করলে উপকার পাওয়া যাবে।

৪) খুসখুসে কাশি: সাধারণত যাদের খুসখুসে কাসি হয় তারা যদি এটাকে উপেক্ষা করে বা গুরুত্ব সহকারে না দেখে; তবে তা থেকে বড় ধরনের কাশের রোগ দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি একটা কাজ করতে পারেন ২০-২৫ গ্রাম পিন্ড খেজুর, ২ কাপ গরম পানিতে সাড়া রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে ওই খেজুর চেটকিযে রসালো সরবতের মতো করে খেতে হবে। এই ভাবে আপনাকে অন্ততঃ ১৫ দিন খেলে খুসখুসে কাশিতে আরাম হবে।

পরিশেষে...

সাধারণত যে কোনো ফলের চেয়ে খেজুরের পুষ্টিগুণ বেশি। এটা আল্লাহ্‌র বিশেষ একটা দয়া আমাদের জন্য। তাইতো বলা হয়ে থাকে বছরে যতোগুলো দিন আছে, খেজুরে তার চেয়েও বেশি গুন রয়েছে। আপনি শুধু রমজান মাসের জন্য নয় সারা বছর পরিবারের সবার জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এই ফলটিকে রাখতে পারেন। এতে করে আপনার শরীর ও মন দুটাই সুস্থ থাকবে। খেজুরের বিচিও রোগ নিরাময়ে বিশেষ ভূমিকা রাখে। খেজুরবিচিচূর্ণ মাজন হিসেবে ব্যবহার করলে দাঁত সাধারণত পরিষ্কার হয়। তাছাড়া খেজুর ফুলের পরাগরেণু পুরুষের বন্ধ্যাত্ব দূর করে শুক্রাণু বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

কাঁঠালের পরিচিতি

কাঁঠাল আমাদের বাঙালির প্রিয় ফলের মধ্যে একটি ফল। গ্রীষ্মের চরম দাবদাহে এই রসালো ফলে জিুড়ায় আমাদের প্রাণ এবং মেটে পানির অভাব। তবে দেখা যায় যে, অনেকেই এই ফলের বিষযে নাক সিঁটকান।নানান পুষ্টিগুণে পুরোপুরি ভরপুর কাঁঠাল। সাধারণত আলুর চিপস আমাদের সকলেরই কমবেশি পরিচিত। আমাদের হয়ত অনেকেরই জানা নাই যে, খাজা কাঁঠালের কোয়াকে শুকনো করে তেলে ভেজে যে চিপস তৈরি হয়, সেটা কিন্তু পটেটো চিপসের থেকেও অনেক সুস্বাদু হয়। আবার কাঁঠালের রস খেলে শরীরে প্রচুর শক্তি সঞ্চারন হয়ে।
কাঁঠালকে বাংলাদেশের জাতীয় ফল ঘোষণা করা হয়েছে, এর ইংরেজী নাম হচ্ছে (Jackfruit)। বাংলাদেশের কম-বেশি সব স্থানেই কাঁঠাল পাওয়া যায়। সাধারণত আমাদের দেশে বসন্ত ও গ্রীস্মের প্রথমে কাঁচা অবস্থায় এবং গ্রীস্ম ও বর্ষায় পাকা অবস্থায় কাঁঠাল পাওয়া যায়। এ ফলটি আকারে বেশ বড়-সড় হয়ে থাকে।কাঁঠাল পুষ্টিগুনে ভরপুর একটা ফল।

কাঁঠালের চাষ

সুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতের প্রায় অধিকাংশ স্থানেই কাঁঠাল পর্যাপ্ত আকারে পাওয়া যায়। তবে কাঁঠাল সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় ফিলিপাইনে। ব্রাজিলের উপকূলবর্তী এলাকায় কাঁঠাল চাষ হয়ে থাকে। ওখানে কাঁঠালের রস আলাদাভাবে প্যাকেট বা কৌটোবন্দি করে বাজারে বিক্রি করা হয়।

কাঁঠালের পুষ্টিগুণ

রসালো ফল কাঁঠালে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, বি-১, বি-২, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ নানা রকমের পুষ্টি ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। এই সকল পুষ্টিকর উপাদান আমাদের শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এর পাশাপাশি কাঁঠাল আমাদের ভিটামিনের চাহিদাও পূরণ করে। সাধারণত কাঁঠালের বিচিতে ৬.৬ গ্রাম আমিষ আছে ও ২৫.৮গ্রাম শর্করা আছে। আমাদের সবার জন্যই আমিষসমদ্ধ কাঁঠালের বিচি বেশ উপকারী।
এজন্য আমাদের সবাইকে কাঁঠাল গাছ বেশি লাগানো উচিত। সেই সঙ্গে কাঁঠাল ফলটি খেয়ে ভিটামিন ‘এ’- এর ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব।স্বাভাবিক আকারের কাঁঠালের ৪-৫ কোয়া থেকে ১০০ কিলো ক্যালরি পর্যন্ত খাদ্য শক্তি পাওয়া যায়। কাঁঠালের হলুদ রঙের কোষ হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ সমদ্ধ। ২-৩ কোয়া কাঁঠাল আমাদের এক দিনের ভিটামিন ‘এ’ এর চাহিদা পূরণ করে।

কাঁঠালের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

১) শক্তির উৎস কাঁঠাল: কাঁঠালে পর্যাপ্ত পরিমাণে শর্করা, ক্যালোরি, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ রয়েছে, যা আমাদের শরীরে দ্রুত শক্তি বাড়ায়। একই সঙ্গে কাঁঠালে কোন কোলেস্টেরোল জাতীয় উপাদান নেই যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। সে কারণে এ ফলটিকে বেশ স্বাস্থ্যকর ফলের তালিকায় আমরা স্থান দিয়ে থাকি।

২) কাঁঠাল রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে: আমাদের সর্দি-কাশি, জ্বরের মতো সাধারণ নানা রোগকে প্রতিহত করে এই রসালো কাঁঠাল। সাধারণত ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের দারুণ উৎস কাঁঠাল।

৩) রক্তস্বল্পতা রোধে কাঁঠালঃ কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, ই, কে, নিয়াচিন, ফলেট, এবং ভিটামিন বি-৬। এছাড়াও আছে বিভিন্ন ধরণের মিনারেল সমৃদ্ধ উপাদান যেমনঃ কপার, ম্যাংগানিজ, ম্যাগনেসিয়াম যা রক্ত তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তাই এটি রক্তস্বল্পতা রোধে দারুণ কাজ করে থাকে। তাই যারা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন তাদের জন্যে এই রসালো ফল কাঁঠাল উপকারি হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।



৪) গর্ভবতী মায়ের খাবারঃ চিকিৎসা শাস্ত্র মতে, প্রতিদিন ২০০ গ্রাম তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে গর্ভবতী মহিলা ও তার গর্ভধারণকৃত শিশুর প্রায় সব ধরনের পুষ্টির অভাব দূর হয়। গর্ভবতী মহিলারা নিয়মিত প্রতিদিন নিদিষ্ট পরিমাণে কাঁঠাল খেলে তার স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে এবং গর্ভস্থসন্তানের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়। দুগ্ধদানকারী মা যদি তাজা পাকা কাঁঠাল খায় তাহলে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

৫) দুরারোগ্য ব্যাধি প্রতিরোধেঃ কাঁঠালে বিদ্যমান প্রচুর পরিমাণে ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস- যা কিনা আমাদের শরীরে আলসার, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ এবং বার্ধক্য প্রতিরোধে সক্ষম। কাঁঠালে আছে প্রয়োজনীয় পরিমাণে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের দেহকে ক্ষতিকর ফ্রির‌্যাডিকেলস থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও আমাদেরকে সর্দি-কাশি রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

৬) চোখ ভাল রাখেঃ কাঁঠালে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-এ, যা আমাদের চোখের জন্য অপরিহার্য একটি পুষ্টি উপাদান। আপনারা হয়ত অনেকেই জানেন না যে, কাঁঠাল খাওয়ার অভ্যাসে দৃষ্টিশক্তি ভালো হয় এবং এটি আমাদের ত্বকের বলিরেখা বা ভাঁজ প্রতিহত করতে সক্ষম। যেহেতু, রসালো ফল কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকে, তাই এটি চোখের রেটিনা বা অক্ষিপটের ক্ষতি প্রতিহত করে থাকে।

৭) হাড় মজবুত ও শক্ত করেঃ আমরা জানি কাঁঠালে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে।এই ক্যালসিয়ামের আধিক্যের জন্যে এটি হাড়ের গঠন সুদৃঢ় ও মজবুত করে। এটি অস্টেওপরোসিস (osteoporosis) নামে হাড়ের ক্ষতিকর রোগ প্রতিরোধ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই আপনি যে কেউ হাড় মজবুত করার জন্যে খাবারের তালিকায় নিতে পারেন জাতীয় ফলের সাহায্য।

৮) খনিজ উপাদানঃ রসালো ফল কাঁঠালে আছে বিপুল পরিমাণে খনিজ উপাদান ম্যাঙ্গানিজ, যা রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আপনারা চাইলে ছয় মাস বয়সের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে কাঁঠালের রস খাওয়ালে শিশুর ক্ষুধা নিবারণ হয়। অন্যদিকে তার প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব পূরণ হয়ে থাকে।

৯) আপনার স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে: পাকা কাঁঠালে রয়েছে পর্যাপ্ত পটাসিয়াম, যা আমাদের শরীরে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে যার ফলে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে পায়।

১০) হজমশক্তি বাড়াতে কাঁঠাল: আমরা আমাদের হজমশক্তির জন্য কত কিছুই না খেয়ে থাকি। এই হজমের জন্য উপাদেয় একটা ফল কাঁঠাল এবং এটি আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিহত করে। কারণ, এতে রয়েছে প্রয়োজনীয় পরিমাণে হজমে সহায়ক আঁশ।

১১) পটাশিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎসঃ কাঁঠাল হচ্ছে পটাশিয়ামের উৎকৃষ্ট একটি উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে পটাশিয়ামের পরিমাণ ৩০৩ মিলিগ্রাম। যারা পটাশিয়াম আমাদের শরীরে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এ জন্যে কাঁঠালে উচ্চ রক্ত চাপের উপশম হয়ে থাকে।

১২) মলাশয়ের ক্যান্সার প্রতিরোধে ও চিকিৎসায়: সাধারনত কাঁঠালে যে ডায়েটারি ফ্যাট উপাদানটি রয়েছে, তা আমাদের শরীরের মলাশয় থেকে বিষাক্ত উপাদানসমূহ পরিষ্কার করে। এতে করে মলাশয়ের ওপর বিষাক্ত উপাদানসমূহের ক্ষতিকর প্রভাব আমাদের শরীরে পড়তে দেয় না এমনকি মলাশয়ের ক্যান্সার প্রতিহত করে।

কাঁঠালের ঔষধি গুনাগুন

সাধারণত কাঁঠাল গাছের শেকড় হাঁপানী উপশম করতে অনেকাংশে সক্ষম। শেকড় সেদ্ধ করলে যে উৎকৃষ্ট পুষ্টি উপাদান নিষ্কাশিত হয়, তা হাঁপানীর প্রকোম নিয়ন্ত্রণে সক্ষম। সুধু তাই নয়, টেনশন এবং নার্ভাসনেস কমাতে কাঁঠাল বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

সবশেষে

আয়ুর্বেদিকের ভাষায় কাঁঠালকে সাধারণত রসায়ণ বলে। সাধারণত কাঁঠাল কাঁচা অবস্থায় থাকলে এঁচড় বলে। কাঁঠালের তরকারি বাঙালির অন্যতম প্রিয় একটা খাবার। কাঁঠালের এঁচড়ে প্রচুর শর্করা থাকে। রান্না করলে এর স্বাদ অনেকটা আলুর মতো মনে হয়ে থাকে। আবার শুকনো হয়ে গেলে অনেকটা সেঁকা রুটির মতোন লেগে থাকে। তাই একে গ্রামের দিকে অনেকটা রুটিফলও বলে থাকে। তবে সতর্কতা হল এই যে, যাঁদের হজম ক্ষমতা কম, তাঁদের এঁচড় না খাওয়াই ভাল। সুধু খেতে কাঁঠাল ফলই নয়, পাতা, বীজ, কাঠ সব কিছুই কাজে লেগে যায়।

আঙ্গুরের পরিচিতি

আঙ্গুর ফল প্রায় সবারই একটি পছন্দের ফল। সব ফলের মধ্যে আঙ্গুর ফল একটু অভিজাত বলেই গণ্য করা হয়। অন্যান্য ফলের চেয়ে আঙ্গুরের দামও বেশি। সুস্বাদু এই আঙ্গুর ফল দিয়ে ওয়াইন, রস, এবং জেলি-জ্যাম ইত্যাদি তৈরি করা ছাড়াও বাইরের বিভিন্ন দেশের নানারকম মুখরোচক রান্নায় এর ব্যবহার হয়। আর  একটা কথা জানেনই তো আঙ্গুর শুকিয়ে হয় কিশমিশ, যা ছাড়া আপনার শখের খাবারগুলো একদমই বেমানান।

আঙ্গুরের ইতিহাস

প্রায় আজথেকে ৬,০০০-৪,০০০ বছর আগে পৃথিবীর পূর্বাঞ্চলের দিকে আঙ্গুরের চাষ শুরু হয়। ৪,০০০ বছর আগে জর্জিয়ায় ওয়াইন তৈরির প্রমাণ খুব ভালভাবে পাওয়া গেছে। এর মানে হল আঙ্গুর অনেক পুরানো একটি ফল ও আঙ্গুরের তৈরি খাবারের ইতিহাস অনেক কালের পুরনো। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায় যে,১৩০০ শতাব্দীতে পার্শিয়ানরা ভারতীয় উপ-মহাদেশে প্রথম আঙ্গুর চাষ প্রবর্তন শুরু করেন,যা পরবর্তীতে ভারতের দক্ষিনাঞ্চলে বিস্তার আকার লাভ করে।ভারতের দক্ষিনাঞ্চলের উঞ্চ আবহাওয়ায় আঙ্গুরের চাষ হলেও এতদিন বাংলাদেশে এখনও আঙ্গুর চাষে সফল হতে পারেনি।আঙ্গুর সাধারণত বিভিন্ন প্রকারের মাটি ও আবহাওয়া জন্মাতে পারে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সবুজ ,লাল, সাদা, কালছে খয়েরি এমন নানা রঙের আঙ্গুর জন্মায়। এমনকি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে আজকাল বীচি ছাড়া আঙ্গুর জন্মানো হয়ে থাকে। সারা পৃথিবীর প্রায় ৭৫.৮৬৬ বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে আঙ্গুর চাষ হয়ে থাকে। তবে মোট উৎপাদনের ৭১% ওয়াইন বানাতে,২৭% তাজা ফল হিসেবে এবং শুধু ২% শুকনো ফল হিসাবে ব্যবহার হয়। তাছাড়া কোথাও কোথাও এর পাতাও খাওয়া হয়।

আঙ্গুরের পুষ্টি উপাদান

আঙ্গুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন। এগুলির মধ্যে রয়েছে বি ১, সি, কে ভিটামিন অন্যতম। এছাড়াও আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম ও খনিজ পদার্থ ম্যাঙ্গানিস। আঙ্গুর শুকিয়ে সাধারণত তৈরি হয় কিশমিশ এবং কিশমিশে রয়েছে ৬০ শতাংশ ফ্রুকটোজ।

আঙ্গুরের চমকপ্রদ স্বাস্থ্য উপকারিতা

১) ক্যানসার নিরাময়ে: আঙ্গুর সাধারণত আমরা জুস করে খেয়ে থাকি। আঙ্গুরের এই জুসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিইনফামিটরির মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে, যা আমাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রদাহ দূর করে থাকে। সাধারণত এই প্রদাহ ক্যান্সার রোগ জন্মের অন্যতম প্রধান কারণ।

২) ত্বককে সুরক্ষিত রাখে: আঙ্গুরে মধ্যে থাকা ফাইটো কেমিক্যাল ও ফাইটো নিউট্রিয়েন্ট আমাদের ত্বকের সুরক্ষায় বিশেষ কাজ করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। এটি আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

৩) বয়সের ছাপে বাধা: আমাদের শরীরের ফ্রি রেডিকেলস ত্বকে বলিরেখা ফেলে দেয়। আঙ্গুরে মধ্যে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এই ফ্রি রেডিকেলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমাদের ত্বক ঠিক রাখে এবং শরীরে বয়সের ছাপ পড়া প্রতিরোধ করে।

৪) কিডনির ভাল রাখতে: আঙ্গুরের সব ভিটামিন উপাদানগুলো ক্ষতিকারক ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা সহনশীল অবস্থায় রাখে। সেই সঙ্গে আমাদের কিডনির রোগ-ব্যাধির বিরুদ্ধেও কাজ করে আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে। এ ছাড়া আঙ্গুর আমাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রোধ করে।

৫) নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন: সাধারণত যারা রক্ত সঞ্চালনের ভারসাম্যহীনতায় ভোগেন  বিশেষ করে তাদের জন্য আঙ্গুরের জুস খুবই উপকারী। আঙ্গুরে মধ্যে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস, যা আমাদের শরীরে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনে সহায়ক ও ইনসুলিন বৃদ্ধি করে থাকে।

৬) ভুলে যাওয়া রোগ নিরাময়: আমরা অনেকেই ছোট ছোট বিষয়গুলো খুব দ্রুত ভুলে যায়। আবার দেখা যায় কোনো কথা বেমালুম স্মৃতি থেকে মুছে যায়। এটি সত্যিকার অর্থে এক ধরনের রোগ। এই ভুলে যাওয়া রোগটি নিরাময়ে আঙ্গুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৭) স্তন ক্যান্সার নির্মূল: স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে আছেন যেসব নারীরা  তারা নিয়মিত খেতে পারেন আঙ্গুর। কেননা গবেষণায় দেখা গেছে আঙ্গুরের উপাদানগুলো স্তন ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষের বিরুদ্ধে কাজ করতে পুরোপুরি সক্ষম।

৮) চুলের যত্নে: চুলের একটু অযত্নেই আমাদের চুল খুশকিতে ভরে যায় এমন অনেকেই আছেন। এছাড়াও দেখা যায় চুলের আগা ফেটে গিয়ে রুক্ষ হয়ে পড়ে, ধূসর রঙের হয়ে যায় এবং শেষমেশ চুল ঝরতে থাকে। এইসব সমস্যার সমাধানে আপনি আঙ্গুর খেতে পারেন।

৯) কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে: আঙ্গুরে সাধারণত টরোস্টেলবেন নামে এক ধরনের যৌগ থাকে, যা আমাদের শরীরে কোলস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

১০) শরীরের হাড় শক্ত করে: আঙ্গুরে আছে প্রচুর পরিমাণে তামা, লোহা ও ম্যাংগানিজের মতো খনিজ পদার্থ থাকে, যা আমাদের শরীরের হাড়ের গঠন ও হাড় শক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

১১) মাথাব্যথা দূর করতে: হঠাৎ করে মাথাব্যথা শুরু হয়ে গেলে আপনি ঔষধ না খেয়ে আঙ্গুর খেলে আরাম বোধ হয়।

১২) চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায়: আমাদের চোখ ভালো রাখতে আঙ্গুর অনেক বেশি কার্যকর। বয়সজনিত সমস্যার কারণে যারা চোখের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য অনেক বেশি উপকারী এই ফল।

১৩) অ্যাজমা প্রতিরোধ করতে আঙ্গুর: আঙ্গুরের ঔষধি গুনাগুন অনেক। আঙ্গুরের এই ঔষধি গুণের কারণে এটি অ্যাজমার ঝুঁকি থেকে আমাদেরকে রক্ষা করে এবং আমাদের শরীরে ফুসফুসে আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়ায়।

১৪) বদহজম দূর করতে: যদি নিয়মিত আঙ্গুর খাওয়া হয় তাহলে বদহজম অনেকাংশে দূর হয়। অগ্নিমন্দ্যা দূর করতেও আঙ্গুর অনেক বেশি কার্যকর।

ধর্মীয় মতানুসারে কিশমিশের উপকারিতা

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সা. বলেছেন, তোমরা কিশমিশ বা আঙ্গুর খেতে একটুও অবহেলা করো না কেননা এই আঙ্গুর ও কিশমিশ আমাদের দেহমন ভাল রাখে । আঙ্গুর আমাদের স্নায়ুতন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং দুর্বল দেহকে চাঙ্গা করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। হাদিস শরীফে বলা হয়েছে, সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তার আগে খালি পেটে বীচি ছাড়া আঙ্গুর হতে তৈরি ২১টি কিশমিশ খেলে শারীরিক দুর্বলতা এবং আল জাইমার রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়।
ইরানের স্বাস্থ্য চিকিৎসা বিষয়ক ওয়েব সাইটে প্রকাশিত একটা নিবন্ধে বলা হয়েছে যে, বীচিবিহীন আঙ্গুর থেকে যে কিশমিশ তৈরি হয় তা ক্যান্সার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আছে । এই জাতীয় কিশমিশ আমাদের রক্তনালীগুলোকে ফ্রি রেডিক্যাল থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, আমাদের রক্তনালীগুলোর কোমলতা বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। আঙ্গুর থেকে যে সব জিনিস বানানো হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো সিরকা।

স্বাস্থ্যসচেতনতায় আমাদেরকে একটু বেশি সক্রিয় হওয়া সবসময়ই উচিত। কেননা স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল কথাটি মিথ্যে নয়, তাই আপনি নজর রাখুন সাস্থ্যের প্রতি।  এখন থেকে মেনে চলুন সাস্থ্য রক্ষায় উপকারী সব নিয়মগুলো।


১৫ টি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য টিপস

১) আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে নিয়মিত প্রতিদিন ১৫ গ্রাম করে মৌরি চিবিয়ে খান। এতে করে দেখা যাবে খুব কম সময়ে রক্ত শুদ্ধ হয়ে আপনার ত্বক উজ্জ্বল হতে শুরু করছে।

২) হাত পায়ের সৌন্দর্য অক্ষুন্ন রাখতে চাইলে হাতে ও পায়ে নিয়মিত আপেলের খোসা ঘষে নিন। এতে করে আগের থেকে হাত ও পা অনেক বেশী ফর্সা দেখাবে এবং কালো দাগগুলো দূর হবে খুব সহজে।

৩) আপনারা স্ট্রোক প্রতিরোধে নিয়মিত চা খান। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত চা খেলে আমাদের ধমনীর গাত্রে ফ্যাট জমতে পারে না। ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে আসে অনেকখানি।

৪) আপনার শরীরকে অতিরক্ত শুষ্কতা থেকে মুক্তি পেতে মধু, দুধ ও বেসনের পেষ্ট মুখে লাগান নিয়মিত। এতে করে আপনার ত্বকের বলিরেখা ও দূর হয়ে যাবে।

৫) আপনার ঠোটেঁ কালো ছোপ পড়লে কাঁচা দুধে তুলো ভিজিয়ে ঠোটেঁ মুছবেন। এটি যদি নিয়মিত করেন তাহলে ঠোটেঁর কালো দাগ অনেকাংশে উঠে যাবে।

৬) টমেটোর রস ও দুধ একসঙ্গ মিশিয়ে কিছু সময় যদি মুখে লাগিয়ে রাখলে রোদে জ্বলা ভাব অনেকাংশে কমে যাবে।

৭) আমাদের সকলের পরিচিত মধু নানাগুণের অধিকারী । আমাদের শরীরে অসাড়তা, গলাব্যথা, রক্তস্বল্পতা, অস্টিও পোরেসিস, মানসিক চাপ, মাইগ্রেনসহ নানা শারীরিক সমস্যায় মধু বিশেষভাবে কার্যকর।

৮) আপনার কনুইতে কালো ছাপ দূর করতে চাইলে এখন থেকে নিয়মিত লেবুর খোসায় চিনি দিয়ে ভালো করে ঘষে নিন। এটা নিয়মিত কিছু দিন করুন অন্তত ২ সপ্তাহ। এতে আপনার কনুই এর কালো দাগ চলে গিয়ে কনুই নরম হবে।

৯) মুখ আমাদের পরিচয় বহন করে। এই সুন্দর মুখ যদি ব্রনে পরিপূর্ণ থাকে তাহলে আপনার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আপনি নিয়মিত রসুনের কোয়া ঘষে নিন ব্রণের উপর। ব্রণ তাড়াতাড়ি হারিয়ে যাবে আপনার মুখ থেকে।

১০) আপনার শরীরে লিগমেন্টেশন বা কালো দাগ থেকে চিরতরে মু্ক্তি পেতে আলু, লেবু ও শসার রস এক সঙ্গে মিশ্রিত করে তাতে আধ চা চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে শরীরের যে অংশে দাগ পড়েছে সেখানকার ত্বকে লাগান। খুব ভাল ফলাফল পাবেন।

১১) যদি মাথাব্যাথার সমস্যা প্রবল আকার ধারণ করে তাহলে এই সমস্যা দূর করতে নিয়মিত প্রচুর মাছ খান। কেননা মাছের তেল মাথাব্যথা প্রতিরোধে বিশেষ কার্যকরী ভুমিকা পালন করে থাকে। তাছাড়া আরও খেতে পারেন আদা। কেননা আদা প্রদাহ এবং ব্যথা নিরাময়ে বিশেষভাবে কার্যকর।

১২) আপনার চুল পড়া বন্ধ করতে নিয়মিত মাথায় আমলা, শিকাকাই যুক্ত তেল লাগাতে পারেন। আর পায়ের গোড়ালি খুব বেশি ফাটলে পেঁয়াজ বেটে প্রলেপ দিন ফাটা জায়গায়। একটা সময় গোড়ালি ফাটা বন্ধ হয়ে যাবে।

১৩) সাধারণত তৈলাক্ত ত্বকে ঘাম জমে মুখ কালো দেখায়। এক্ষেত্রে আপনি একটা কাজ করতে পারেন ওটমিল ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশ্রিত করে মুখে লাগিয়ে রাখবেন আধা ঘন্টা বা তার একটু বেশি সময়। তারপর ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে নিন। যাদের হাত খুব ঘামে তারা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত কিছুদিন লাউয়ের খোসা হাতে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ করে। তারপর দেখবেন আর হাত ঘামবে না।

১৪) আপনার পিঠের অনেক পুরানো কালো ছোপ তুলতে ময়দা ও দুধ এক সঙ্গে মিশিয়ে পিঠে দশ মিনিট ধরে ঘষবেন, নিয়মিত ২ সপ্তাহ এটা করতে পারেন। নিয়মিত এই মিশ্রণটি ব্যবহার করলে পিঠের ছোপ উঠে যায়।

১৫) আপনার মুখে যদি বাদামী দাগ থাকে তাহলে বাদামী দাগ উঠাতে পাকা পেঁপে চটকে মুখে লাগান কিছু সময় রেখে দিন, পরে মুখ ধুয়ে ফেলুন।


মাইগ্রেনের ব্যথা: কী খাবেন, কী খাবেন না

মাইগ্রেনের ব্যথা অনেকের কোনো কোনো দিনকে অসহ্য করে তোলে। মাথার কোনো এক পাশে প্রচণ্ড ব্যথা, বমি ভাব বা বমি, চোখে ঝাপসা দেখা ইত্যাদি সমস্যা এ সময় মানুষকে প্রায় শয্যাশায়ী করে ফেলে। মাইগ্রেনের ব্যথার আকস্মিক আক্রমণের জন্য কিছু বিষয় কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে কিছু খাবারদাবার, যা এই ব্যথাকে বাড়িয়ে দেয়।
অপর্যাপ্ত পানি পানের কারণে সৃষ্ট ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে রক্তে শর্করা কমে যাওয়া মাইগ্রেনের ব্যথাকে আমন্ত্রণ জানায়। এ ছাড়া নিয়াসিন ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অভাব ঘটলে এবং রক্তস্বল্পতার কারণেও মাথাব্যথা বাড়ে।
ব্যথার তীব্রতা কমাতে ট্রিপটোফেন-জাতীয় খাবার বেশ সুফল বয়ে আনে। লাল চাল, খেজুর, কিশমিশ, দুধ, দই, ডিম, শিম, বাদাম, ডুমুর, সবুজ ও কমলা রঙের সবজি, কলাসহ নানা ধরনের ফল নিয়মিত খাওয়া উচিত তাঁদের। ভেষজ চা, বিশেষ করে আদা-চা ও পুদিনা-চা মাথাব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।
কিছু খাবার মাইগ্রেনের রোগীদের জন্য পরিত্যাজ্য। যেমন: চকলেট, পাউরুটি, কেক পেস্ট্রি, রং দেওয়া খাবার, সংরক্ষিত খাবার, আচার বা সস ও ময়দা-চিনির খাবার। মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট বা টেস্টিং সল্ট ব্যথা বাড়ায়।


বরফ দেবেন না সেঁক দেবেন?

শারীরিক ব্যথা-যন্ত্রণায় ভোগেন না, এমন মানুষ নেই। কখনো মেরুদণ্ডের ব্যথা, কখনো কোমরের ব্যথা, কখনোবা পায়ের ব্যথা চরম ভোগায়। এসব ব্যথা থেকে স্বস্তি পেতে গরম ও ঠান্ডা পানির টোটকা ব্যবহার করা যায়। কোন ধরনের ব্যথায় কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে, সে সম্পর্কে জানিয়েছে এনডিটিভি অনলাইন।
পিঠের ব্যথা
অনেক দিনের পিঠব্যথায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁরা ভাবেন গরম পানিতে একটু গোসল করলে আরাম লাগবে। গরম পানির সেঁক দিলে স্বস্তি পাওয়া যাবে। তবে বিষয়টি এমন নয়। বরং বরফের ঠান্ডা প্যাক ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ব্যথার জায়গায় দু-তিন দিন আইসপ্যাক দিলে পিঠের ব্যথা কমে যায়। তবে যদি ধারাবাহিকভাবে পিঠে ব্যথা করে, সে ক্ষেত্রে গরম সেঁক ভালো ফল দিতে পারে।
ব্যথা
কাজ শুরুর আগে সবারই উচিত গা গরম করে নেওয়া। হাঁটু আর কনুইটা একটু নড়াচড়া করে নেওয়া। এমনটা না করে কাজ শুরু করলে ব্যথা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বরফ-থেরাপি নেওয়া যেতে পারে। তবে কাজ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে নয়, অন্তত ২০ মিনিট বিরতি দিয়ে। এতে আরাম পাওয়া যাবে।
গোড়ালির ব্যথা
একটু বেশি হাঁটাহাঁটি করলে বা জুতাটা কায়দামতো না হলে গোড়ালির ব্যথা হয় অনেকেরই। এই ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য লোকজন গরম সেঁক দিতে বলে। সেটা ঠিক উপদেশ নয়। বরং ঠান্ডা পানি ব্যবহারে গোড়ালির ব্যথা প্রশমিত হয়।
গেঁটে বাত
গেঁটে বাতের ব্যথা কী যে যন্ত্রণার, যার আছে সে-ই বোঝে। এখন প্রশ্ন হলো, এই ব্যথা কমানোর উপায় কী? ঠান্ডা, গরম, নাকি উভয়ের ব্যবহার? বিশেষজ্ঞরা বলেন, গরম সেঁক দিলে ব্যথার স্থানের মাংসপেশিগুলো শিথিল হয়। এতে করে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। আবার বরফ ব্যবহারে প্রদাহ কমে। ফলে একবার গরম, আরেকবার ঠান্ডা ব্যবহারে গেঁটে বাতে আরাম পাওয়া যায়।


কমলার খোসায় রূপচর্চা

ফলটুকুই তো মূল। খোসা আর বিচি ফেলে দিলেই না ফলের স্বাদ পাওয়া যাবে। তবে ফেলে দেওয়া জিনিসও যে রূপচর্চায় বেশ কাজে লাগতে পারে, প্রমাণ পাওয়া গেছে অনেকবার। এখন কমলার সময়। স্বাদে তো কমলা দারুণ, এর খোসাও কিন্তু কম যায় না।

যেভাবে উপকার পাবেন—
 ভিটামিন সি কমলার খোসার মধ্যেও আছে। খোসা ভালো করে জ্বাল দিয়ে রস বের করে নিন। যেকোনো তেলের সঙ্গে মিশিয়ে গোসল করার আগে গায়ে মালিশ করে নিন। ত্বকে মসৃণ ভাব চলে আসবে। ঠিক একইভাবে কমলার খোসা শুকিয়ে পাউডার করে সেটা তেলের সঙ্গে মিশিয়ে স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
 যেকোনো মিষ্টান্নতেও কমলার খোসা ব্যবহার করতে পারেন। চোখের দেখা আর মুখের স্বাদ দুটোর জন্যই ভালো কাজ করবে।
 চালের গুঁড়া, দই ও কমলার খোসা তিনটি জিনিস মিশিয়ে আলতোভাবে মালিশ করলে ব্ল্যাকহেডস দূর হবে।
 ব্রণের সমস্যা কমাতে কমলার খোসার পেস্ট ব্যবহার করুন।
 স্ক্রাবার হিসেবে কমলার খোসা ব্যবহার করে দেখুন, মরা চামড়া সরে যাবে, ত্বক নরম হবে।
 খোলা লোমকূপের সমস্যা ধীরে ধীরে সমাধান হবে।
 ত্বকে অমসৃণভাবে কালো দাগের সমস্যা থাকলে ময়দা, কমলার রস, কমলার খোসা মিশিয়ে মালিশ করুন কিছুক্ষণ। চলে যাবে। যত সাধারণভাবে কম উপকরণ মিশিয়ে করবেন, তত ভালো ফলাফল পাবেন।
 যেকোনো প্যাকের সঙ্গেও কমলার খোসা মিলিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। ত্বক উজ্জ্বল হবে।
 রোদে পোড়া ভাব দূর করতে দুধ অথবা দইয়ের সঙ্গে কমলার খোসা মিশিয়ে নিতে পারেন।
 চকচকে ভাব আনতে নখে ঘষুন।
 সারা রাত কমলার খোসা পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। তিনটি কাজ হবে—চুল পরিষ্কার, খুশকি দূর ও চুল নরম করা।
 বলিরেখা কমিয়ে আনতেও এর জুরি মেলা ভার।
যেটা করবেন না
 কমলার খোসা ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকলে বাদ দিন। গুণাগুণ কমে যাবে।
 কমলার খোসা বেশি দিন শুকিয়ে রেখে দেবেন না। ছত্রাক জন্মাতে পারে।
 কমলার খোসা বা প্যাক ব্যবহার করার পর বেশ কিছুক্ষণ রোদে যাওয়া যাবে না। ত্বক রোদে পুড়ে যাবে।
 যাদের ত্বক সংবেদনশীল, কমলার খোসাকে দূরেই রাখুন। কারণ অ্যালার্জি হতে পারে। যদি ব্যবহার করতেই হয় তাহলে কমলার খোসা কম থাকবে। প্যাকের পরিমাণ বেশি থাকবে।


আঙুর ফল এর উপকারিতা

সারা বিশ্বে যত রকম গাছের চাষ করা হয়, সেগুলোর মধ্যে আঙুর সবচেয়ে পুরনো। আঙুর শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, খেতেও সুস্বাদু ফল। আজকাল বেশিরভাগ আঙুর আসে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে। প্রাচীন গ্রিকদের কাছে পাঁচ হাজার বছর আগে থেকে আঙুরের তৈরি ওয়াইনকে ‘দেবতার রক্ত’ বলা হতো, যা আজও প্রতীকি চিহ্ন বহন করে। তবে হালকা সবুজ রংয়ের আঙুর থেকে লাল বা গাঢ় সবুজ রংয়ের আঙুরে বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। আঙুরে ‘ভিটামিন সি’ তেমন না থাকলেও আঙুর ইনফেকশন থেকেও রক্ষা করতে সাহায্য করে। ওজন কমাতেও এটি ব্যাপক ভূমিকা রাখে। গরমকালে যথেষ্ট আঙুর খেলে শীতকালেও সুস্থ থাকা যায়।
১. সপ্তাহ দুয়েক প্রতিদিন খোসাসহ দু’কেজি আঙুর আর সাথে যথেষ্ট পরিমাণে জল বা গ্রিন চা পান করলে কয়েক কেজি ওজন কমানো সম্ভব। তবে সে আঙুর হতে হবে অবশ্যই কোনো রকম কেমিকেল ছাড়া পুরোপুরি অর্গানিক উপায়ে চাষ করা। আঙুরের বড় গুণ হল – এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়৷
২. আঙুরে রয়েছে প্রচুর ফাইবার আঙুরের খোসাতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, যা মানুষের ইমিউন সিস্টেমকে (রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা) শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। আঙুরে অনেক বেশি পরিমাণে পটাশিয়াম থাকায় যা শরীরের বাড়তি জল কমিয়ে প্রয়োজনীয় জলের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে।
৩. অ্যান্টি এজিং (বার্ধক্য প্রতিরোধী) শুধু গ্রিন টি নয়, আঙুরও তারুণ্য ধরে রাখতে এবং রূপ লাবণ্য বাড়তে সাহায্য করে। শুধু তাই নয় আঙুর ক্যানসার সেলগুলোর বৃদ্ধি কমাতেও সাহায্য করে থাকে।
তাই, আঙুর খান, সুন্দর থাকুন।


তুলসী পাতায় সমাধান করুন নানাবিধ শারীরিক সমস্যা

প্রাচীনকাল হতেই নানা শারীরিক সমস্যা সমাধানে ব্যবহার হয়ে আসছে তুলসী পাতা। তুলসী পাতার ঔষধি গুণের কারণে এটি বহুকাল ধরেই সমাদৃত ঘরোয়া চিকিৎসায়। ছোটোখাটো নানা শারীরিক সমস্যা থেকে শুরু করে মারাত্মক দৈহিক সমস্যাও দূর করতে কার্যকরী এই তুলসী পাতা।  জেনে নিন শুধুমাত্র তুলসী পাতার ব্যবহারে নানা শারীরিক সমস্যা সমাধানের  উপায়গুলো।
১। গলাব্যথা ও সর্দি কাশি দূর করতে
ঋতু পরিবর্তনের সময় ঠাণ্ডা লেগে সর্দি কাশি হয়ে যায় এবং গলা ব্যথার সমস্যাও দেখা দেয়। এই সমস্যা দূর করবে শুধুমাত্র তুলসীপাতা। নিয়মিত তুলসী পাতার রস পান করলে ও তুলসী পাতা ফোটানো পানি দিয়ে গার্গল করলে দ্রুত সমস্যার সমাধান পাবেন।
২। মাথাব্যথা উপশম করতে
অনেক সময় মানসিক চাপ, মাইগ্রেন বা অন্যান্য অনেক কারণেই মাথাব্যথা শুরু হয়ে যায়। মাথাব্যথা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে শুকনো তুলসী পাতা পানিতে ফুটিয়ে এই পানির ভাপ নিন। খুব ভালো ফলাফল পাবেন।
৩। জ্বর নিরাময়ে
১ মুঠো তুলসী পাতা ২ কাপ পানিতে ফুটিয়ে মধু মিশিয়ে চায়ের মতো পান করলে নানা ধরণের জ্বর যেমন ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ইত্যাদি থেকে রক্ষা পেতে পারেন। এছাড়াও সাধারণ ঠাণ্ডা জ্বর হলে তুলসী পাতার চা তা দ্রুত নিরাময়ে সহায়তা করে।
৪। দাঁতের সমস্যা দূর করতে
দাঁতের জীবাণু দূর করতে তুলসী পাতার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদানের জুড়ি নেই। এছাড়াও মাড়ির ইনফেকশন জনিত সমস্যা দূর করে তুলসী পাতা। সমস্যা দূর করতে শুধুমাত্র তুলসী পাতা চিবিয়ে রস শুষে নিন।
৫। কিডনির সমস্যা দূরে করতে
তুলসী পাতার রস দেহ থেকে ক্ষতিকর টক্সিন দূর করার ক্ষমতা রাখে। নিয়মিত তুলসী পাতার রস পান করলে কিডনির সমস্যা, কিডনি ড্যামেজ এমনকি কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কমে যায়।
৬। কানের ইনফেকশন দূর করতে
অনেক সময় কানের বিভিন্ন কারণে কানের ইনফেকশনের সমস্যা দেখা দেয়। যদি প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করতে চান তাহলে কানে কয়েক ফোঁটা তুলসী পাতার রস ফেলে দিন। তুলসী পাতার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিইনফ্লেমেটোরি উপাদান কানের ইনফেকশন ও প্রদাহ দূর করবে।


যাত্রাপথে বমিভাব হলে করণীয়…

বাস বা ট্রেনের ঝাঁকুনি, লঞ্চের দুলুনি এবং বিমানের শূন্যতার কারণেই মূলত এই সমস্যায় পড়েন অনেকে। পেটে অসস্তিকর অনুভূতি, মাথা ঘোরানো, কানে ভোঁ ভোঁ করতে থাকা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। আজকে জেনে নিন এই মোশন সিকনেস থেকে বাঁচতে অর্থাৎ বাস বা ট্রেন ধরণের বাহনে উঠলে বমিভাব দূর করার খুবই সাধারণ কিন্তু কার্যকরী উপায়গুলো…
১) বাহনে উঠার আগে কি খাওয়া উচিত এবং উচিত নয় সেদিকে নজর দিন। অতিরিক্ত সফট ড্রিংকস, ঝাল-মশলাযুক্ত খাবার একেবারেই খাবেন না। যারা এই সমস্যায় ভোগেন তারা প্রয়োজনে কিছু না খেয়েই বাহনে উঠুন। অনেক দূরের পথ হলে হালকা শুকনো কিছু খেয়ে নিন।
২) অতিরিক্ত ঘ্রাণ বা সুগন্ধযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। বাহন চলাকালীন সময়ে কিছু খেতে চাইলে শুকনো চিপস ধরণের খাবার অল্প পরিমাণে খাবেন। পানি পান করবেন।
৩) বাহন যেদিক মুখ করে সামনে এগুচ্ছে তার উলটো দিকে কখনোই বসবেন না। এতে উলটো মোশনের কারণে বমিভাব প্রবল হয়। বাহন যেদিকে এগুচ্ছেন সেদিক মুখ করে বসুন।
৪) বাসে বসার ক্ষেত্রে পেছনের দিকের সিটে বসার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। পেছনের দিকে ঝাঁকুনি বেশী লাগে যা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৫) যতোটা সম্ভব চলার পথের সমতলে নজর রাখুন। বাইরের দৃশ্য দেখায় মনোযোগ দিন। নিচের দিকে বা উপরের দিকে তাকিয়ে বসে থাকলেও বমিভাব ও অস্বস্তি হয়।
৬) যাদের মোশন সিকনেস রয়েছে তারা বাহনে উঠে চলার সময় কোনো বই পড়া বা মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপে কিছু দেখার চেষ্টা করবেন না। এতে আরও অস্বস্তি হতে থাকবে।
৭) বদ্ধ স্থানে আরও বেশী সমস্যা হয়। তাই বাস বা ট্রেনে উঠলে জানালার পাশে বসে তাজা বাতাস গ্রহন করতে পারলে এই বমিভাব আপনা থেকেই কেটে যায়। বিমানের জন্য বা বড় ফিক্সড জানালার এসি বাসের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়।
৮) চলার পথে অন্যান্য যাত্রীদের কাউকে অসুস্থ হয়ে বমি করতে দেখলে অবস্থা আরও বেশী খারাপ হয়ে যায়, তাই যাত্রীদের দিক থেকে মনোযোগ সরিয়ে বাইরের দিকে মনোযোগ দিন অথবা চোখ বন্ধ করে গান শুনতে থাকুন।
৯) ঘুমিয়ে পড়া হচ্ছে সবচাইতে বুদ্ধিমানের কাজ। ঘুমিয়ে পড়তে পারেন এই অস্বস্তিকর অনুভূতি থেকে বাঁচতে। ভালো কাজে দেবে।
১০) বমিভাব দূর করার জন্য বাহনে উঠার আগেই এই জাতীয় ঔষধ খেয়ে নিতে পারেন। যদি আপনার খুব অল্প দূরত্বের জন্য এবং ঘন ঘন এই সমস্যা হতে থাকে তাহলে সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খাবেন।

MKRdezign

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget